রবিবার, ০৫ Jul ২০২৬, ০৫:১৩ পূর্বাহ্ন

শিক্ষামন্ত্রীর ইশারায় পক্ষপাতমূলক রিপোর্ট: বেরোবির ভিসি কলিমুল্লাহ

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই আলোচনা-সমালোচনায় ছিলেন ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। সম্প্রতিক সময়ে কলিমুল্লাহসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন-ইউজিসি।

বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার (৪ মার্চ) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ।

এ সময় তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রীর পরামর্শে এ ঘটনা ঘটেছে।’ শিক্ষামন্ত্রীর উদ্দেশ করে বেরোবির ভিসি বলেন, ‘এ ধরণের মানসিকতা নিয়ে শিক্ষার মতো পবিত্র মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করা উচিত না।’

আগের উপাচার্যের অনিয়মের দায় তার ঘাড়ে পড়েছে উল্লেখ করে বলেন, ‘অতীতের অনিয়মের নথি তদন্ত কমিটির কাছে প্রদান করা হলেও কোনও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।’

দায়িত্ব পাওয়ার থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ ওঠে। কার্যদিবসে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকায় দেখা দাপ্তরিক জটিলতা এ নিয়ে আন্দোলনেও নামেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তবে, এ বিষয়ে নিজের পক্ষে সাফাই গেয়ে ড. কলিমুল্লাহ জানান, তিনি প্রতিষ্ঠানটির জন্য প্রতিদিন ২০ থেকে ২২ ঘন্টা কাজ করেন।

দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়ে ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ জানান, মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি উপাচার্যের পদ থেকে অব্যাহতি নেবেন না।

২০১৭ সালের জুনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ। দায়িত্ব নেয়ার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান উন্নয়নমূলক প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির অভিযোগ ওঠে। এছাড়া নিয়ম লঙ্ঘন করে নিজের পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেয়ার অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে।

পরবর্তীতে ২০১৯ সালে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প পরিচালকদের নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের নানা অসঙ্গতি নজরে এলে ইউজিসিকে তদন্তের নির্দেশ দেন শিক্ষামন্ত্রী।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ২০২০ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে। এরপর চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি সরেজমিন পরিদর্শন করে ২৫ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দেয় কমিটি।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com